Pride and Prejudice Bangla summary
বেনেট ফ্যামিলি Longbourn নামে একটা গ্রামে থাকে। তাদের গ্রামের পাশে Netherfield Park নামক একটা জায়গা আছে। যেখানে একটা নতুন পরিবার এসেছে যারা খুবই ধনী পরিবার। এই পরিবারে মধ্যে চার্লস বিংলে (Charles Bingley) নামক একজন আছে এবং তার দুইজন বোন আছে। এদের মধ্যে একজন বোন বিবাহিত আরেকজন অবিবাহিত। চার্লস বিংলে যে ধনী ব্যক্তি এটা যখন মিসেস বেনেট (Mrs. Bennet) জানতে পারে তখন সে ভাবে তার যে ৫ (Jane, Elizabeth, Mary, Kitty, or Lydia) জন মেয়ে আছে তাদের কারও একজনের সাথে চার্লসের বিয়ে দিতে পারলে খুব ভালো হয়।
উপন্যাসের নায়ক Fitzwilliam Darcy হলো চার্লস বিংলের বন্ধু। চার্লস বিংলের কাছে ডার্সি বেড়াতে এসেছে। বেড়াতে এসে সে আর যাবার নাম করছে না। সবচেয়ে বড় ব্যাপার হলো ডার্সি, চার্লস বিংলের চেয়ে বেশী ধনী। তবে ডার্সির কিছু নেগেটিভ দিকও আছে। যেমন ডার্সি খুব মুডি একজন লোক। কিছুদিন পর গ্রামে একটা পার্টির আয়োজন করা হয়। ওই পার্টিতে বিংলে ও বেনেট উভয় পরিবার উপস্থিত ছিল। পার্টিতে চার্লস, জেনের প্রতি আকর্ষিত হয়।
জেন হলো বেনেট পরিবারের সবচেয়ে বড় মেয়ে। মিসেস বেনেট চেয়েছিলেন কোন একটা মেয়ের সাথে চার্লসের বিয়ে হয়ে যাক। আর এতে যদি জেন হয় তাতে সমস্যা নেই। ওই পার্টিতে চার্লস আর জেন ডান্স করতে থাকে। এরপর চার্লস বিংলে, ডার্সিকে জেনের ছোট বোন এলিজাবেথের সাথে ডান্স করার আমন্ত্রণ জানায়। এলিজাবেথ দেখতেও খুবই সুন্দরী। কিন্তু সে রাজি হয় না। এখানেই ডার্সি তার Pride কে দেখায়। এই কথাগুলো এলিজাবেথ শুনতে পায় আর এলিজাবেথের মনে ডার্সির জন্য ঘৃণার জন্ম নেয়।
এলিজাবেথ, ডার্সিকে খারাপ ভাবতে শুরু করে। আর এখানে জন্মায় এলিজাবেথ এর Prejudice (বিদ্বেষ)। এদিকে চার্লস আর জেন একে অপরকে পছন্দ করেছে। আর চার্লসের দুই বোনেরও জেনকে খুব পছন্দ হয়েছে। আর এতটাই পছন্দ হয়ে গেছে যে এই দুইবোন তাকে ডিনারের জন্য আমন্ত্রণ জানায়। এরপর জেন ডিনারে যায় আর সঙ্গে এলিজাবেথ কে নিয়ে যায়। তারা যখন ডিনার করতে যায় তখন অনেক বৃষ্টি হয় এবং ওরা দুজনেই ভিজে যায়। আর এই ভিজে যাওয়ার কারণে জেন অসুস্থ হয়ে পড়ে। আর তাদেরকে চার্লসের বাড়িতে সাত দিন থাকতে হয়। এরমধ্যে চার্লস আর জেনের মধ্যে দূরত্ব কমতে থাকে কিন্তু ডার্সি আর এলিজাবেথের মধ্যে দূরত্ব বাড়তে থাকে। ঠিক যেমন Pride এবং Prejudice.
পরে ডার্সি আস্তে আস্তে এলিজাবেথ কে পছন্দ করা শুরু করে। সে তার প্রথমদিকের ভুলগুলো বুঝাতে পারে এবং এলিজাবেথ সম্পর্কে ভালো ধারণা পোষণ করতে শুরু করে। কিন্তু চার্লসের যে দুজন বোন ছিলো তাদের মধ্যে একজন বোন যে অবিবাহিত সে এলিজাবেথকে পছন্দ করে না। কারণ সে ডার্সিকে পছন্দ করে। আর সে দেখতে পারছিলো ডার্সি আস্তে আস্তে এলিজাবেথকে পছন্দ করে ফেলছে। তাই চার্লসের বোনের এলিজাবেথের প্রতি ঈর্ষা জন্মায়। তবে ডার্সির প্রাইড সবসময় আগে চলে আসে। সে ভাবতে থাকে সে অনেক ধনী পরিবারের তার জন্য এলিজাবেথ ঠিক হবে কিনা। সাতদিন হয়ে গেলে এলিজাবেথ আর জেন বাড়ি চলে যায়।
এরপর কাহিনীতে মি. কলিন্স নামে একটা নতুন চরিত্র আসে। তিনি হলেন বেনেট পরিবারের উত্তরাধিকারী। কারণ বেনেট পরিবারের পাঁচজনই মেয়ে ছিল, কোন ছেলে ছিল না। মি. কলিন্স এখানে আসে বেনেট পরিবারের মেয়ে বিয়ে করতে। আর প্রোপোজ করে ফেলে এলিজাবেথকে। কিন্তু এলিজাবেথ বারবার মি. কলিন্সকে না করে কারণ সে তাকে পছন্দ করে না। এদিকে কলিন্স, এলিজাবেথকে বলে যে Lady Catherine তাকে একটা জায়গার ডিন করে দিয়েছে। সে তাকে খুব সুখে রাখবে। কিন্তু এলিজাবেথ তাতেও সে বারণ করে দেয়।
এরপর কাহিনীতে উইকহাম (George Wickham) নামে একটা চরিত্র আসে। সে স্থানীয় এক মিলিটারি অফিসার। প্রথমে তো উইকহামকে ভদ্রলোক মনে হলেও পরে দেখবো সে কতটা খারাপ লোক। সে এলিজাবেথের সাথে দেখা করে আর তাকে ডার্সি সম্পর্কে উল্টো পাল্টা বলে। এই শুনে এলিজাবেথ, উইকহামকে ভালো মানুষ ভাবে কারণ উইকহাম তাকে ডার্সির ব্যাপারে বলেছে। এর ফলে এলিজাবেথ, উইকহামকে পছন্দ করে। কিছুদিন পর কলিন্স আবার আসে। এবার এসে সে এলিজাবেথের প্রিয় বান্ধবীকে বিয়ে করে নেয়।
এদিকে চার্লসের বোনেরা জেনকে একটা চিঠি পাঠায়। জেন চিঠি পেয়ে চমকে ওঠে। কারণ চিঠিতে লেখা ছিল চার্লসেরা লন্ডনে চলে যাচ্ছে। আর হয়ত কোনদিন ফিরবে না। আর তাদের ভাই চার্লস বিংলে, ডার্সির বোন Georgiana কে বিয়ে করবে। প্রথম থেকেই এলিজাবেথ, ডার্সির উপর রেগে ছিল তার উপরে এলিজাবেথের বোনের বিয়ে ভেঙে ডার্সির বোনের বিয়ে দিচ্ছে এর ফলে এলিজাবেথ ঘৃণা করতে থাকে ডার্সিকে। তারপর এলিজাবেথ, Lady Catherine এর বাসায় ঘুরতে হয়। Lady Catherine হলো ডার্সির আন্টি।
Lady Catherine একটা পার্টির আয়োজন করে। এই পার্টিতে ডার্সি আর এলিজাবেথ এর আবার দেখা হয়। এখানে ডার্সি, এলিজাবেথকে প্রোপোজ করে কিন্তু এলিজাবেথ মানা করে দেয়। আর বলে ডার্সির জন্য তার বোনের বিয়ে ভেঙেছে এবং উইকহাম এর চাকরি গেছে। ডার্সি এসব শুনে নিরাশ হয়ে সেখান থেকে চলে যায়। কিন্তু যাবার আগে এলিজাবেথকে একটা চিঠি লিখে যায়।
আর ওই চিঠিতে লেখা ছিল জেনের বিয়ে ভেঙে যাওয়ার তার কোন হাত নেই। আর উইকহাম তার ১৫ বছর বয়সী বোনকে নিয়ে পালাতে চেষ্টা করে। এখানে এলিজাবেথ বুঝতে পারে ডার্সি অহংকারী হলেও কারও বিয়ে ভেঙে দেওয়ার মতো লোক না। এরপর আবার ডার্সি লন্ডনে ফিরে যায় আর এলিজাবেথও বাড়িতে ফিরে যায়। আর জেনকে বলে কিভাবে উইকহাম এলিজাবেথকে বোকা বানিয়েছিল।
কিছুদিন পর Mr & Mrs. Gardiner, বেনেটদের বাড়িতে আসে আর এলিজাবেথকে সাথে নিয়ে ঘুরতে যায়। Mr & Mrs. Gardiner হল এলিজাবেথের আন্টি ও আঙ্কেল। তারা Pemberley House এ ঘুরতে যায়। সেখানে ডার্সিও আছে। যখন ডার্সি জানতে পারে এলিজাবেথ তার আঙ্কেল আন্টির সাথে এসেছে তখন ডার্সি তাদের আতিথেয়তায় লেগে যায়। এরপর ডার্সি আর এলিজাবেথের ধারণাও ভালো হয়ে যায়। আর একে অপরের কাছে আসে ও পছন্দ করতে শুরু করে। ঠিক সেইসময় একটা দুঃসংবাদ আসে যে বেনেট পরিবারের সবচেয়ে ছোট মেয়ে লিডিয়া, উইকহাম এর সাথে পালিয়ে যায়।
তারপর ওদের খোঁজ করে কোথাও পাওয়া যায় না। তারপর এলিজাবেথ বাড়িতে এসে তার মা বাবাকে সামলায়। কিছুদিন পর তার আঙ্কেল আন্টি কাছ থেকে খবর আসে লিডিয়াকে পাওয়া গেছে। কিন্তু উইকহাম তার সাথে থাকতে রাজি হয় না। তার দাবি তাকে যদি টাকা দেওয়া হয় তাহলে সে লিডিয়াকে নিয়ে সংসার করবে। কিন্তু ভালো খবর যে উইকহামকে টাকা দেওয়া হয়ে গেছে। বেনেট পরিবার ভাবে ওই আঙ্কেল আন্টির হয়ত টাকাটা দিয়ে দিয়েছে। কিন্তু যখন লিডিয়া বাড়ি ফিরে তখন এলিজাবেথ তার কাছ থেকে জানতে পারে সে টাকাটা ডার্সি দিয়েছিল। এরপর এলিজাবেথের সাথে ডার্সির বিয়ে হয়ে যায়। আর চার্লস বিংলের জেনের সাথে বিয়ে হয়ে যায়। আর এভাবেই গল্পের হ্যাপি সমাপ্তি ঘটে।