SSC & HSC Grammar Lecture Sheet অথবা Board Question Solution এর পিডিএফ এবং ওয়ার্ড ফাইল ক্রয় করতে Click here!

The Tempest Bangla Anubad

 নাটকের নাম: দ্য টেম্পেস্ট
The Tempest Bangla Summary by William Shakespeare
সাগর উত্তাল - উদ্দাম ভূমধ্যসাগর। বিকেল পড়তেই দেখা দিয়েছে ঝড়ের তাণ্ডব। ঝড়ের সঙ্গে মিতালী করে সমুদ্র যেন রুদ্ররূপ ধারণ করেছে। সাগরের ঢেউয়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বিশালায়তন এক জাহাজ এগিয়ে চলেছে। জাহাজের যাত্রীরা ঝড়ের কবলে পড়ে একেবারে নাস্তানাবুদ। অনবরত শনশনানি শব্দ। বাজের আওয়াজের সঙ্গে রয়েছে বিদ্যুতের ঝলকানি। জাহাজে রয়েছেন যথাক্রমে নেপলসের রাজা অ্যালানেসো, রাজপুত্র ফার্দিনাণ্ড, রাজভ্রাতা সেবাষ্টিয়ান, মিলানের ডিউক অ্যান্টেনিও, বৃদ্ধ অমাত্য গজ্ঞালো আরও অনেকে। সবার মনেই কি হয় কি হয় ভাব। জাহাজের ক্যাপ্টেন ব্যাপার দেখে অধৈর্য্য হয়ে বড় মাঝিকে তাড়া দেন নাবিকরা যাতে খুব জোরে জোরে দাঁড় টানে। নইলে যে কোন মুহুর্তে সবাইকে তীরে আছড়ে পড়ে মরাও বিচিত্র নয়।

বড় মাঝি নাবিকদের সতর্ক করে, সাহসে ভর দিয়ে তাড়াতাড়ি টানতে, জাহাজের ওপর কোমর কসে পালটা তুলে ধরতে। নইলে তীর থেকে যদি জাহাজটা দূরে থাকে, তাহলে ঝড় যত আস্ফালন করুক না কেন, বিপদের কিছুমাত্রও কারণ থাকে না। তাই বারবার বলছে, জাহাজ মাঝ দরিয়ার নাও। এদিকে রাজা অ্যালানসো ব্যস্ত হয়ে পড়লেন। তিনি বড় মাঝিকে সাবধান করে দিয়ে বললেন, লোকদের তাড়াতাড়ি কাজে লাগাও। এরপর তিনি ক্যাপ্টে নের খোঁজ করেন। অ্যান্টেনিও ক্যাপ্টে নের খোঁজে এলে সর্দার মাঝি দুজনকে অনুরোধ করে ডেকের নীচে যেতে। কারণ ঝড় স্বাধীন। সে রাজার অনুশাসন মানতে নারাজ। তাই কোন কথা না বলে কাউকে বিরক্ত না করে সোজা নীচে গিয়ে স্থির হয়ে থাকুন। অবস্থা সঙ্গীন, যে কোন সময় বিপদ ঘটতে পারে। Gonzalo তা শুনে তার বড় মালিককে বলতে থাকে আপনি জানেন আপনি কাকে জাহাজে করে নিয়ে যাচ্ছেন?

দ্য টেমপেস্ট ৩৭৩ বড় মাঝি নরম স্বরে উত্তর দেয়, জানি রাজা কে, আর আপনি তার বৃদ্ধ অমাত্য, তা ও জানি। যদি আপনার ক্ষমতা থাকে ঝড় থামান। আমরা তবে হাত তুলে বসে থাকি। আর যদি অক্ষম হন, তবে আপনাদের ধন্যবাদ দিই এতক্ষণ বেঁচে থাকার জন্য। আর যদি দুর্ঘটনা ঘটেই তার মোকাবিলা করার জন্য তৈরী থাকুন। সমুদ্রের ঝড় তো আর রাজার প্রজার নয় যে , হুকুম তামিল করবে। তাই বলছি, দয়া করে নিজের ঘরে যান। আমাদের মাথা ঠাণ্ডা রেখে কাজ করতে দিন। গজ্ঞালো তা শুনে আপন মনে বলতে থাকেন, বড় মাঝির যেমন বিকট চেহারা তেমনি ভাষাও কর্কশ। তার ভয়-ডর বলতে কিছু নেই। সে না মৃত্যুবরণ না করলে আমাদের জীবত থাকার আশা নেই, হায় ঈশ্বর কি হবে!

ক্রমে জাহাজে ত্রাসের সঞ্চার হতে সবাই আর্তনাদ করে ওঠে। বড় মাঝি জাহাজের মাস্তুল তুলে জাহাজকে বাতাসের অনুকূলে রাখতে হুঙ্কার ছাড়ে। সেবাষ্টিয়ান, অ্যান্টোনি ও গজ্ঞালোকে ডেকের ওপরে আসতে দেখে বড় মাঝি এবার বেশ রাগতস্বরে বলে এভাবে চীৎকার করে যদি অতীষ্ট করে তোলেন আমরা হাত গুটিয়ে বসে থাকবো। জাহজটাকে কিছুতেই বাঁচানো যাবে না। তাই একটি প্রাণীরও বাঁচবার আশা থাকবে না। এবার সবাই নীচে এসে মিলিত হয়ে ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করে, মরতেই যদি হয় তবে শুকনো জমিতে যেন প্রাণটা যায়। তারপর বাধ্য হয়ে ঝড় তুফানের মাঝে সবাই নিজেদের ভাগ্য ঈশ্বরের ওপর ছেড়ে দিয়ে প্রার্থনারত অবস্থায় আসন্ন মৃত্যুর জন্য অপেক্ষা করে। এক সময় ঝড়ের বেগ কমল। সবাই হাঁফ ছেড়ে বাঁচল। বারো বছর আগেকার কথা। বারো বছর আগেকার মিলান। তখন প্রস্পেরো ছিলেন মিলানের ডিউক।

তিনি ছিলেন একজন সর্বশক্তিমান মান্যকর ব্যক্তি। ভালবাসতেন তাঁর একমাত্র ছোট ভাই অ্যান্টনিওকে। কিন্তু পরে তাঁর একমাত্র ক • মিরান্দার জন্মের পর তার ভালবাসা কেড়ে নিয়ে প্রথম স্থান অধিকার করে। ডিউকের স্ত্রী মারা গেলে তিনি লেখাপড়া নিয়েই সর্বদা সময় কাটাতেন । ভাই অ্যান্টোনিওর হাতে জমিদারের সব ভার অর্পণ করে তিনি বিদ্যাশিক্ষায় ব্রতী হন। কাজে ডুবে থাকেন। কিন্তু অ্যান্টেনিও তার সঙ্গে চরম বিশ্বাসঘাতকতা করে। মিলানের ডিউক বৃদ্ধ প্রস্পেরো ও তার একমাত্র কন্যা মিরান্দা অ্যাণ্টেনিওর চক্রান্তের শিকার হন। ডিউক তখন বাধ্য হয়ে সরে আসেন সাধারণ জীবন থেকে। তিনি এবার পুরোপুরি নিজেকে উৎসর্গ করেছেন গুহ্যবিদ্যা সাধনা আর মানসিক শক্তি অর্জনের সঙ্কল্পে। যে সব কর্মচারী ডিউকের অধীন ও আজ্ঞাবাহী ছিল অ্যাণ্টেনিও ক্রমশঃ তাদের পদোন্নতির মাধ্যমে নতুন করে সভা গড়ে তুললো নিজের মত করে। অ্যান্টোনিও একদিন আইভিলতর মত ডিউকের দেহে লুকিয়ে ছিল। সে সেখান থেকেই শোষণ করতে লাগল তার জীবনের পরিপুর্ণ রস। জীবনকে পুরোপুরি ভোগ করতে লাগল। অ্যান্টোনিও নিজের বুদ্ধি - কৌশলে হাতে পেল রাজকর্মচারী আর রাষ্ট্রযন্ত্র। সে হল সর্বেসর্বা

ডিউকের প্রতিনিধি তার ভাই অ্যান্টেনিও নিজেকেই ডিউক বলে জাহির করতে লাগল। আর সে নেপোলসের রাজার কাছ থেকে স্বাধীন রাজ্য খণ্ডকে বিসর্জন দিয়ে তার বশ্যতা স্বীকার করে নিল। ফলে ডিউকের চিরশত্রু অ্যান্টোনিও বশ্যতা স্বীকারের বদলে তাকেই অর্পণ করলেন সুন্দরী মিলান। অ্যান্টোনিও খুশী। এরকম একটা অসৎ উদ্দেশ্য চরিতার্থ করবার অভিপ্রায়ে এক রাতে বিশ্বাসঘাতক সৈন্য সংগ্রহ করে মিলানের তোরণদ্বার খুলে দেয়। রাতের অন্ধকারে ডিউকের একমাত্র কন্যা মিরান্দা ও ডিউককে জোর করে বার করে নিয়ে এলো। তারা ডিউক আর তার কন্যাকে হত্যা করতে পারেননি। কারণ, পাছে ডিউকের হিতৈষীগণ তাদের ওপর বিক্ষুব্ধ হয়ে পড়ে। তাই তারা অতি গোপনেও ক্ষিপ্ততার সঙ্গে দুজনকে একটা ভাসমান নৌকায়। চাপিয়ে সমুদ্রে বেশ খানিকটা ভাসিয়ে নিয়ে এল।

এবার আগে আগে থেকে ঠিক করে রাখা একটা গাছের পচা গুড়ির খোলের মধ্যে তাদের নামিয়ে দিয়ে নৌকো নিয়ে পালিয়ে এল। এদিকে সেই পচা খোলে সাজসরঞ্জাম বলতে কিছুই ছিল না। এ দলে নেপলসবাসী একজন দয়ালু ব্যক্তি ছিলেন যিনি দয়াপরবশ হয়ে আহার্য, পানীয় এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় পোষাক - পরিচ্ছদ ও ডিউকের মহান প্রিয় সেই মহামূল্যবান বইগুলি দিয়েছিলেন। ঈশ্বরের করুণায় ডিউক ও তার কন্যা এই দ্বীপের অধিবাসী। এই গুহাই তাদের আবাসস্থল। এদিকে বারো বছর পরে মিরান্দা একদিন শোনে তার অতীত জীবনের করুণ কাহিনী। সে অপলক চোখে চেয়ে থাকে ডিউক প্রস্পেরোর বিষণ্ণ মুখের পানে। করুণ তার দৃষ্টি। সে এবার বলে, আমার বাবা ছিলেন মিলানের মহান ডিউক। আপনি তবে আমার পিতা নন? তবে কেমন—প্রস্পেরো সম্বিৎ ফিরে পেয়ে বলেন, তোমারই পিতা ছিলেন মিলানের ডিউক। 

তোমার মা বলেছিলেন তুমি আমার কন্যা। হ্যা, আমারই কন্যা । তখন মিরান্দা পিতার কোলে মুখ লুকিয়ে শিশুর মত বলতে লাগল, পিতা, আমার মনে এখন দুটি প্রশ্ন জাগছে। এক, দয়াবান গজ্ঞালোকে আমার খুব দেখতে ইচ্ছে করছে। দুই, এই সমুদ্র ঝড় সৃষ্টি করার কারণ জানতে চাই । হঠাৎ দূর থেকে আর্তনাদ ভেসে আসে । মিরান্দা আর্তনাদ শুনে চমকে উঠলে প্রস্পেরো কন্যার পিঠে সস্নেহে হাত বুলিয়ে অশাম্ভ উত্তাল উদ্দাম সমুদ্রের দিকে তাকান। তারপর বলেন, আর বেশী কিছু জানতে চেয়ো না মিরান্দা । দৈবযোগে অতি আশ্চর্যভাবে আমার শত্রুদের এনে দেয় এই দ্বীপে। যাদুবিদ্যার বলে আমি জানতে পেরেছি যে, আমার চরম সৌভাগ্য নির্ভর করছে অতি শুভকর এক নক্ষত্রের ওপর। তা মোটেই আমি অবহেলা করবো না। তুমি এখন ক্লান্ত, নিদ্রা যাও – বিশ্রাম কর। বিশ্রামে ক্লান্তি দূর হবে। এরপর প্রস্পেরো গুহার বাইরে এসে আকাশের মেঘের দিকে তাকিয়ে হাত তোলেন। একটা হাওয়ায় কুণ্ডলী এসে হঠাৎ তার সামনে ঘুরপাক খেতে থাকে। প্রস্পেরো সেই দিকে তাকিয়ে বলতে থাকেন— ওগো, আমার প্রিয়তমা পত্নী এরিয়েল, অশরীরী—

তোমাকে আমি যা করতে আদেশ দিয়েছি ঝড়কে দিয়ে তুমি কি তা করিয়েছো? বল, করিয়েছো কি? ঠিক তখনই বাতাসের কুণ্ডলী থেকে রূপসী এরিয়েলের মূর্তিধারণ করল। অপূর্ব মূর্তি। ক্ষীণ কণ্ঠ শোনা গেল হে স্বামী প্রণাম। তোমার আদেশ মত আমি রাজপোতে চড়ে সামনে আর মাঝের পাটাতনে, কেবিনে কেবিনে বিস্ময় বিহ্বলতা জাগিয়েছি। আবার কখনো বিরক্ত হয়ে বহু জায়গায় আগুন ধরিয়েছি। জাহাজের মাস্তুল, আড়কাঠ আর পালের খুটিগুলো আলাদা আলাদা ভাবে জ্বালিয়েছি। প্রস্পেরো এবার ভাবাপ্লুত কণ্ঠে অশরীরী আত্মা এরিয়েলকে জিজ্ঞাসা করেন— জাহাজের একটি প্রাণীও কি তখন প্রকৃতিস্থ ছিল? এমন কেউ ছিল যার বুদ্ধিভ্রংশ হয়নি? হে স্বামী, একটি প্রাণীও প্রকৃতিস্থ ছিল না।

ওরা পাগলামির আবেশে তখন আচ্ছন্ন হয়ে সমুদ্রের জলে ঝাপিয়ে পড়েছিল। তবে কারো কোনো ক্ষতিই হয়নি। তাদের কারো পোষাকে একটা কাদার দাগও লাগতে দেইনি। সবাই নিরাপদে তীরে গিয়ে পৌঁছেছে। আর রাজপোতটিকে বিক্ষুব্ধ বারমুডা দ্বীপের নির্জন এক কোণে নাবিক সমেত লুকিয়ে রাখা হয়েছে। নাবিকেরা পাটাতনের ফাঁকে গাদাগাদি হয়ে সম্মোহনে ও ক্লান্তিতে ঘুমে অচেতন হয়ে আছে। এই দ্বীপে নিরাপদে যারা পৌঁছেছে আপনার আদেশ মত আমি তাদের বিভিন্ন দলে ভাগ করে ছড়িয়ে দিয়েছি চারিদিকে। রাজপুত্র ফার্দিনান্দকে আমি তীরে তুলেছি। সে সমুদ্রের সঙ্গে লড়াই করে খুবই ক্লান্ত। এবার অশরীরী আত্মা Prospero কে জিজ্ঞাসা করেন কাজ দেবার সময় আমাকে আপনি যে প্রতিজ্ঞা করেছিলেন তা কিন্তু মোটেও করেন নি।

তোমার প্রতিশ্রুতির কথা মনে আছে কি? Prospero অভয় দিয়ে বলেন — হ্যা, কাজ এখনো শেষ হয়নি। আমি মোটেই ভুলিনি তোমার যুক্তির কথা। বিদ্বিষ্টি সেই শক্তি ভুলে গেছো কি, কী যন্ত্রণা থেকে তোমাকে আমি মুক্ত করেছি? ভুলে গেছো কি সেই দৃষ্ট ডাইনী সাইকোরাক্সকে? কোথায় তার জন্ম জান? সে বিদ্বেষের ভারে কুঁজো হয়ে গেছিল। সব সময় তাই আমি তোমাকে মনে করিয়ে দিই, কি ছিলে তুমি? ডাইনী সাইকোরাক্সের জন্ম হয় আলজিয়ার্সে। সাংঘাতিক শয়তান। যাদুবিদ্যার কারণে সে মানুষের কাছে ভয়াবহ হয়ে উঠেছিল। তাইতো তাকে সেখানকার লোকেরা তাড়িয়ে দিয়েছিল। শুধুমাত্র তার একটি কাজের জন্য হত্যা করেনি। এই ডাইনীর একটা সম্ভান হয়েছিল। আর নাবিক দ্বারা সে পরিত্যক্ত হয়েছিল। তবে তুমি সেই ডাইনীর ভৃত্য ছিলে। তার সেই সম্ভান বিকৃত অঙ্গ ক্যালিবান আজ আমারই ভৃত্যের কাজে নিযুক্ত। 

এবার অশরীরী এরিয়েল দারুণ শিউরে গিয়ে ডাইনীর কথা মনে করে। তার লালসাপূর্ণ অসৎ কাজগুলো করতে না পারার জন্যে এত যন্ত্রণা দিয়েছিল। আর শেষ পর্যন্ত সেই ডাইনী যাদুবিদ্যাবলে ওকে একটা পাইন গাছের ফাটলের মধ্যে বন্দী করে রেখেছিল। দীর্ঘ বারো বছর ধরে বন্দী করে রাখে। যখন ডাইনী সাইকোরাক্স মারা গেল৷ বন্দীদশায় যেন শোনে নিজেরই কণ্ঠের আর্তনাদ। একদিন তার স্বামী হঠাৎ এলেন গাছের কাছে।

শুনলেন অশরীরী স্ত্রীর দুঃখ দুর্দশার কাহিনী। এবার যাদুবিদ্যাবলে পাইন গাছকে তিনি বিযুক্ত করে মুক্তি দিলেন। অশরীরী এরিয়েলের এই সব কথা মনে পড়ে প্রাণ- মন কৃতজ্ঞতায় ভরে উঠল। সে প্রস্পেরোর কাছে ক্ষমা চেয়ে বলল, আর কোনদিন সে অবাধ্য হবে না। আদেশ মেনে অনুগত হয়ে এখন থেকে তার সকল শক্তিকে কাজে লাগাবে। প্রস্পেরো অশরীরী এরিয়েলকে এবার আদেশ করেন, সমুদ্র পরীর রূপ ধারণ করে আমার কাছে চলে এস। তোমার রূপ আমি ছাড়া আর কারো কাছে কোনদিনই দৃষ্ট হবে না। আর মাত্র দু’দিন পরে তোমার মুক্তির ব্যবস্থা করবো।

এরিয়েল গেল স্বামীর আদেশ পালন করতে। আর প্রস্পেরো পরবর্তী কাজের পরিকল্পনা করেন। ক্যালিবান বন থেকে কাঠ সংগ্রহ করে , কাঠে আগুন জ্বালে আর ফাইফরমাশ খাটে। তার জন্ম হয় শয়তানের ঔরসে ও ডাইনী সাইকোেরাক্সের গর্ভে। ভাষা ওর বড় রুক্ষ। প্রস্পেরোর সঙ্গে সব সময়ই কথা কাটাকাটি চলে। ক্যালিবান তাকে অভিসম্পাত দেয়। এই দ্বীপটি তার মা সাইকোেরাক্স তাকে দিয়ে গেছে। প্রস্পেরো বলপূর্বক তা কেড়ে নিয়েছে। কিন্তু দিয়েছে কত না আশা। প্রস্পেরো এই দ্বীপের রাজা আর ক্যালিবান তার প্রথম প্রজা। আজ সে কঠিন পাথরে বিদ্ধ ও বঞ্চিত এই দ্বীপের অবশিষ্ট অংশ থেকে।

ক্যালিবান প্রথমে প্রস্পেরোর আস্থানে সস্নেহে স্থান পেয়েছিল। পরে সে আপ্রাণ চেষ্টা করেছিল মিরান্দার পবিত্রতা নষ্ট করে এই দ্বীপ ক্যালিবানের বংশে ভরিয়ে তোলবার জন্য। প্রস্পেরো তাই তাকে মেরে আশ্রয় থেকে তাড়িয়ে দেন। প্রস্পেরো খুব চেষ্টা করেছিলেন ক্যালিবানকে মানুষ করে তুলতে। তিনি তাকে ভাষা শেখাতেন, সময় পেলেই বোঝাতে চেষ্টা করতেন কতসব ভাল কথা। কিন্তু তার নীচ বংশ, ফলে যা শিখলো তার খারাপ টুকুই সে গ্রহণ করলো। তাই তো বাধ্য হয়েই তাকে বন্দী করে রাখলেন পাহাড়ের মধ্যে অন্ধকার গুহায়। ভাষা শেখানোর জন্য সে প্রস্পেরোকে খুব করে গালি - গালাজ করে। তার প্লেগ হোক ইত্যাদি আরও কত অভিশাপ দেয়।

প্রস্পেরো তাকে রীতিমত ভয় দেখায় তার কথা না শুনলে পুরানো বাত রোগে একবারে পঙ্গু করে দেবে বলে। তার একঘেঁয়ে কাতরানিতে বনের বানর ও অন্য পশুরা পর্যন্ত সন্ত্রস্ত হয়ে উঠবে। এবার ক্যালিবান ভয়ে শিউরে ওঠে। ও প্রতি শ্রুতি দেয় যে আর কখনো অবাধ্য হবে না। তার বদ্ধমূল ধারণা প্রস্পেরোর যাদুবিদ্যা এতই শক্তিশালী যে, তার মায়ের গুরুদেব সেষ্টেসকেও তাঁর চাকর করে রাখতে পারেন। অসীম ক্ষমতা না থাকলে তা সম্ভব নয়। তাই ভয় করতেই হয়। এদিকে রাজকুমার ফার্দিনান্দ দ্বীপে দিন কাটাচ্ছে। একদিন দ্বীপের বালুকাবেলায় যখন রাজকুমার নিঃসঙ্গ অবস্থায় বসে আছে তখন জলপরীরূপী সন্দরী এরিয়েলের সমধর সঙ্গীত শুনতে পায়।

সে ভাবে কোথা থেকে ভেসে আসছে এই সুমধুর সঙ্গীত। সে উঠে ধীরে ধীরে গানের স্বর অনুসরণ করে। পিতার মৃত্যুশোকে কাতর রাজকুমার ভুলে যায় সবকিছু। গানের স্বর যেন ক্রমে জলে গড়িয়ে গেল। সমুদ্রের বিক্ষোভ প্রকাশিত হয়ে গেল। এবার যেন গান ভেসে আসে আকাশ পথ থেকে। রাজকুমার ভাবে এই গান তার ডুবে যাওয়া পিতাকেই মনে করিয়ে দিচ্ছে। নিশ্চয়ই এ গান কোন জীবিতের নয় । অশরীরী আত্মার এটা। প্রস্পেরো আর মিরান্দা গুহার বাইরে দাঁড়িয়ে বিহ্বল দৃষ্টিতে চেয়ে থাকে। যার উদ্দেশ্যে এই সুন্দর গান বাতাসে ভেসে আসছিল তিনি সামনে দাঁড়িয়ে।

সে নতশিরে বলে, দেবী আমার প্রার্থনা পূর্ণ করুন। আপনি কি তবে এই দ্বীপের দেবী? যদি দেবীই হন তবে আমি এখানে কিভাবে চলবো তার উপযুক্ত নির্দেশ দিন। মনে কৌতূহল হয় জানতে, আপনি কি পার্থিব না অশরীরী? এবার মিরান্দা রাজকুমারের চোখ থেকে নিজের দৃষ্টি নামিয়ে নিয়ে বলল। আমি সামান্য এক নারী, মানবী মাত্র। রাজকুমার তখন আপন মনে বলল , হ্যা ঈশ্বর ! আমার ভাষা! এই ভাষায় যারা কথা বলে তাদের মধ্যে আমি নিজেকে সেরা বক্তা বলে মনে করি। আর যে দেশে এই ভাষা ব্যবহৃত হয়, সেই দেশেই আমার জন্ম। এবার প্রস্পেরো সামনে এগিয়ে এসে বলল, তুমি কোথায় থাকবে গো? একথা যদি নেপলসের রাজার কানে ওঠে, তবে? অশ্রুসজল চোখে তাকিয়ে ফার্দিনান্দ বলল, আমি একা। নিতান্তই একা। আপনার মুখে নেপলসের কথা শুনে আমি অবাকই হচ্ছি।

নেপলসের রাজা, তার ভাই , আর মিলানের ডিউক , তার দুই পুত্র , অমাত্য আর অপর পারিষদবর্গ সবাই এক সঙ্গে সলিল সমাধি লাভ করেছেন। আর আমি নেপলসের রাজার পুত্র। শুধু আমি একা আজ বেঁচে আছি । প্রস্পেরো গম্ভীর কণ্ঠে বললেন, মিলানের ডিউক আর তার কন্যা তোমাকে চালনা করবে। অবশ্য যদি তুমি যোগ্য হও তবেই এটা সম্ভব। মিরান্দা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলে – বাবা! নবাগতকে দেখছি তৃতীয় ব্যক্তিরূপে। আপনি কেন তাকে এরকম কটু ভাষায় বিদ্রূপ করছেন ? তা শুনে ফার্দিনান্দ বিনম্র চোখে মিরান্দার দিকে তাকিয়ে বলল, আপনি যদি অবিবাহিতা হন, যদি মন থেকে ভালবাসা না ফুরায়, আমি তবে আপনাকে নেপলসের রাণী করে দেব, কথা দিচ্ছি। প্রস্পেরো বলেন, কিন্তু একটা কথা। তুমি এখানে বিনা অধিকারে নিজের যা পরিচয় দিচ্ছ , আসলে তা তুমি নও। তুমি এ দ্বীপে এসেছো চররূপে । তুমি এসেছো আমার মেয়েকে আমার বুক থেকে ছিনিয়ে নিতে। এবার রাজকুমার ফার্দিনান্দ মাথা তুলে দাঁড়িয়ে বলে, নেপলসের রাজকুমার মিথ্যা বলতে জানে না। আমার কথা বিশ্বাস করতে পারেন।

মিরান্দা তাকে বাধা দিয়ে বলে, এমন সুন্দর কান্তিতে কলঙ্ক তো থাকতে পারে না। আর অশুভ কোন শক্তিই আশ্রয় করতে পারে না এমন সুন্দর দেহে। আমি এরকমই বিশ্বাস করি। প্রস্পেরো এবার গম্ভীর হয়ে মিরান্দাকে আদেশ করলেন , তুমি আর এই যুবকের হয়ে সালিশী না করে বরং আমাকে অনুসরণ করো। বিশ্বাসঘাতকের শাস্তিস্বরূপ ওর গলা আর পা আমি একসঙ্গে করে লোহার শিকলে বাঁধবো। আর ওর খাদ্যের ব্যবস্থা হবে নদীর ঝিনুক, শিকড় আর পানীয় হবে সমুদ্রের নোনা জল। ফার্দিনান্দ হঠাৎ তার তরোয়াল কোষমুক্ত করে বলল, যতক্ষণ ধড়ে প্রাণ থাকবে আমি এইরকম অসৎ ব্যবহার প্রতিরোধ করবোই করব। তা শুনে মিরান্দা হঠাৎ দুজনের মাঝখানে এসে দাঁড়িয়ে পড়ে কেঁদে বলল — বাবা, রাজকুমারকে এভাবে আপনি পরীক্ষা করবেন না। আমি নিশ্চিত জানি যুবক ভদ্র। গুপ্তচর মোটেই নয়।

এবার প্রস্পেরো ফার্দিনান্দ - এর উপর গর্জে উঠে বলে, তোমার তরোয়াল কোষবদ্ধ কর। বিশ্বাসঘাতক কোথাকার। শক্তির আস্ফালন করে মোটেই কিন্তু লাভ হবে না। আমার এই দণ্ডে আমি তোমাকে নিরস্ত্র করে দিতে পারি। মিরান্দা এবার পিতাকে অনুনয় করে বলে যে, নিজেই যুবকের জামিন থাকবে। ক্ষমা করা হোক তাকে। প্রস্পেরো এবার রাগতভাবে মিরান্দাকে বলে, একজন ভণ্ড যুবকের জন্যে তোমার কোন ওকালতিই আমি বরদাস্ত করছি না। তুমি ঐ চোখে একমাত্র পুরুষ দেখেছো ক্যালিবানকে। তাই তো তুমি ভাবছ দুনিয়ায় বুঝি এর চেয়ে সুন্দর কোন যুবকই আর নেই। বোকার মত তোমার ধারণা। ভুল, ভুল ধারণা। তার কথা মিরান্দা স্বীকার করে নিয়ে বলে, আমার ভালবাসা অতি সাধারণ, তাই অপর পুরুষের সৌন্দর্য - লালসা আমার মনে নেই। এবার প্রস্পেরো ফার্দিনান্দ -এর দিকে তাকিয়ে বলে, আমাকে অনুসরণ কর। তোমার স্নায়ুগুলো বর্তমান আবার বাল্যাবস্থায় ফিরে গেছে। তোমার যৌবনশক্তি লুপ্ত হয়ে গেছে আজ।

ফার্দিনান্দ দৃঢ় কণ্ঠে এবার বলে, হতে পারে! অসম্ভব নয়। তবে আমার উদ্যম আজও স্বপ্নের মত শৃঙ্খলাবদ্ধ হয়েছে সত্য। আত্মীয় স্বজনের মৃত্যুর জন্যই আমার এ মানসিক দুর্বলতা। আপনার রক্তচক্ষুতে আমি মোটেই ভীত নই। তাই যদি ক্ষণিকের জন্যই কারাগারে এই নারীকে দেখতে পাই, তবে জগতে যারা মুক্ত তারা ভোগ করুক। এই কারাগারেই আমি মুক্তির স্বাদ উপভোগ করতে চাই। ফার্দিনান্দকে মিরান্দা বলল, তুমি জেনো, আমার পিতা যে অমানবিক আচরণ করেছেন তা অবশ্যই ক্ষণস্থায়ী। কিছুদিন পর অবশ্যই তার মত পাল্টীবে। অদূর ভবিষ্যতে স্বাভাবিক হয়ে যাবে। এসব নিয়ে মিছে ভেব না।

এদিকে দ্বীপের অন্যদিকে নেপলসো রাজা অ্যালেনসো তার ভাই সেবাস্তিয়ান অ্যান্টেনিও, গঞ্জালো আড্রিয়ান ও ফ্রান্সিসকো আলোচনায় মগ্ন। মর্মাহত রাজাকে নানাভাবে সান্ত্বনা দেওয়া হতে লাগল। দ্বীপে জীবন ধারণের উপযোগী সবই রয়েছে । কিন্তু আশ্চর্য! সবাই বলে এমন দুর্বিপাকে পড়েও আমাদের পোশাক পরিচ্ছদ এতটুকুও মলিন হয়নি। যেন আমাদের পোষাকগুলো আফ্রিকাতেরাজার পরমা সুন্দরী কন্যা ক্লরিবেনের সঙ্গে টিউনিসের রাজার বিবাহে যখন আমরা প্রথম পরেছিলাম, ঠিক সেই রকমই নতুন ঝকঝকে মনে হচ্ছে। এটা একটা সুখের ব্যাপার যে, ফিরতি পথে আমরা ভালই আছি। 

রাজা অ্যালনাসো বললেন, এসব কথা আমার মনে সায় দেয় না। আগে বুঝলে আমি এমন জায়গায় আমার কন্যার বিয়ে দিতাম না। আমার ছেলেকে হারাতে হলো। আর কার্যতও মেয়েকে নির্বাসনই দেওয়া হয়েছে মনে করছি। তখন ফ্রান্সিসকো রাজাকে বলল, আমি যুবরাজকে তরঙ্গে ভাসতে দেখেছি। তিনি মাথা উঁচু করে তরঙ্গের ওপর ধরে রেখেছেন আর খুবই সাহসিকতার সঙ্গে সাঁতার কেটে তীরের দিকে এগিয়ে যাচ্ছেন দেখলাম। সুতরাং তাই নিঃসন্দেহে বলতে পারি তিনি মরেন নি। রাজা ব্যপারটা অবিশ্বাস করায় রাজভ্রাতা সেবাঞ্চিায়ান তাকে এই ক্ষতির জন্য অভিযুক্ত করেন। নেপলসের রাজকন্যাকে একজন আফ্রিকাবাসীর কাছে নির্বাসন দেওয়া হল। এতে ইওরোপকে অবশ্যই সম্মানিত করা হয়নি। দুঃখটা ঐখানেই ক্লারিবেল অনিচ্ছা সত্ত্বেও পিতার স্নেহকে অবজ্ঞা না করার জন্যই এই বিয়েতে সম্মতি দিয়েছিলেন।

এবার কিন্তু রাজার মুখের দিকে চেয়ে রাজভ্রাতা সেবাস্তিয়ান এরকম বলার জন্য অনুতপ্ত হন। সবাই পরিশ্রান্ত। একসময় ডিউক অ্যাণ্টেনিও রাজভ্রাতা সেবাষ্টিায়ান ছাড়া সবাই ঘুমিয়ে পড়ে। অ্যাণ্টেনিও এবার সেবাষ্টিয়ানের দিকে তাকিয়ে বলে— দেখুন, আপনার এখন কর্তব্য কি তা আপনার মাথায় রাজমুকুট উঠতে চলেছে। আমার এ কথাটাকে তুচ্ছজ্ঞান না করে বিশ্বাস করলে আপনার মর্যদা বাড়বে, কমবে না। তাই বলছি কি , আমায় মনে রাখবেন। তা শুনে সেবাষ্টিয়ান অ্যাণ্টেনিওকে বললেন — ডিউক, আপনার কথায় মনে হচ্ছে আমি ঘুমস্ত লোকের মত বুঝি স্বপ্ন দেখছি। এ কথায় অ্যাণ্টেনিও দ্বিগুণ উৎসাহিত হয়ে বলেন, আমার কথাটা হেসে উড়িয়ে দিচ্ছেন? নিজেই জানেন না কিভাবে মনের বাসনাটি পালন করছেন আপনি। জলে ডুবস্ত লোক এমনি করেই তীরের কাছাকাছি এসেও দূরে সরে যায়। কিন্তু কেন? আপন স্বভাবগত ভয়ে , হতাশায় বা অকর্মন্যতায় । বৃথাই রাজাকে স্তোকবাক্য শুনিয়ে আপনি সান্ত্বনা দিচ্ছেন যে , যুবরাজ ফার্দিনান্দ জীবিত। আপনি কি মনে করেন রাজকুমার জীবিত? এটা কি আপনি নিজে বিশ্বাস করেন? সেবাষ্টিয়ান দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলেন। ফার্দিনান্দ তবে বেঁচে নেই।

একথা শুনে অ্যান্টেনিও অপলক চোখে তাকিয়ে থেকে বলেন, ভাল কথা! আপনিই বলুন, Naples এর পরবর্তী  ক্ষমতায় উত্তরাধিকারী কে হতে পারে? এবার সেবাষ্টিয়ান নির্দ্বিধায় উত্তর দিলেন — ক্লারিবেল , আমার একমাত্র ভাইঝি ক্লারিবেল। অ্যান্টেনিও অসম্মতি জানিয়ে বলেন না। একেবারেই অসম্ভব। ক্লারিবেল টিউনিসের রাণী৷ দূরদেশে তার বাস। তার ঠিকানা ধরা ছোঁয়ার বাইরে। আর যার জন্যে আমাদের বেশ ক’জন লোক মৃত্যুবরণ করেছে, যার জন্যে আমরা কয়েকজন এরম চরম দুর্দশার মধ্যে পড়েছি। আমাদের কাছে এটা অতীত কোন ভূমিকা ছাড়া কিছুই নয়। তাই ভবিষ্যতকে গড়ে তুলতে হবে আমাদের দুজনকেই। আমরাই বর্তমান আর ভবিষ্যৎ। এবার সেবাষ্টিয়ান উত্তেজিত হয়ে বলেন, মহামান্য ডিউক এরকম কথা আপনার মুখে অন্ততঃ মানায় না।

ক্লারিবেল রাণী হোক না কেন, দুই দেশের মধ্যে বিস্তর ব্যবধান থাকলেও সেই নেপলসের উত্তরাধিকারিণী। কথাটা তো মিথ্যা নয়৷ অ্যাণ্টেনিও অবিচলিত শান্ত কণ্ঠে বললেন, আপনি কিন্তু ভুলই করছেন রাজভ্রাতা। একবারটি ভাল করে ভেবে দেখুন, সবার ঘুম হয়ে উঠেছে আপনার কৃতকর্মের সহায়ক। সেবাষ্টিয়ান নিজেকে সামলে নিয়ে বললেন, মনে পড়ছে, আপনি আপনার দাদা প্রস্পেরোকে যেভাবে সরিয়ে দিয়েছিলেন সিংহাসন থেকে আপনার বিবেক কি তাতে সায় দেয়, বলুন? বিবেক? ঐ শব্দটি কিন্তু আমার অভিধানে নেই। রাজা অ্যালনসো এখানে যে মাটিতে শয্যা নিয়েছেন মিলানের স্থানচ্যুত ডিউক প্রস্পেরো কিন্তু তার চেয়ে ভাল জায়গায় শুয়ে দিন কাটাচ্ছেন না। ইচ্ছে করলে এই মুহূর্তে আমি তরোয়ালের সাহায্যে তাকে অবশ্যই খতম করে দিতে পারি। আপনিও ইচ্ছা করলে কিন্তু অনায়াসেই পারেন।

এবার সেবাষ্টিয়ান অ্যান্টেনিওর দৃষ্টাত্তকে নিজের ক্ষেত্রে তুলে ধরে বলেন — হে বন্ধু! আপনি যেভাবে মিলানের ডিউক হয়েছেন , আমি সেই পথেই নেপলসের রাজা হব। দেখে নেবেন , অবশ্যই হব। নেপলসের রাজাকে দেয় রাজস্ব থেকে আপনাকে মুক্তি দেব। আসুন আমরা হাত মিলাই। আজ থেকে আমরা বন্ধু হলাম। এবার উভয়ে একসঙ্গে তরোয়াল কোষমুক্ত করে। অ্যান্টেনিও সহাস্যে তাকে সাবধান করে বলেন — বন্ধু, মনে যেন থাকে আমি যখনই হাত তুলবো সেই মুহূর্তে আপনার তরোয়াল যেন গঞ্জালের কাঁধে পড়ে। এক কোপে কাজ হাসিল। তখনই প্রস্পেরোর অশরীরী স্ত্রী এরিয়েল অদৃশ্য অবস্থায় নিদ্রিত গঞ্জালোর কানে কানে বললেন, তোমরা ঘুমচ্ছো! আর যে দুজন জেগে রয়েছে তারা তোমাদের হত্যা করবার ফন্দি আঁটছে। তাই জেগে নিজেদের রক্ষা করতে চেষ্টা কর। অমাত্য গঞ্জালো আচমকা ঘুম থেকে উঠে রাজাকে ডাকলেন। দেবদূতগণ মহান রজাকে রক্ষা করুন। তাকে প্রাণে বাঁচান। 

রাজা উঠেপড়ে তরবারি হাতে সোষ্টিয়ান ও অ্যাণ্টেনিওকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে অবাক হয়ে জিজ্ঞাসা করেন — কি, ব্যাপার কি, বল তো? তোমাদের উত্তেজিত দেখাচ্ছে কেন? উত্তরে সেবাষ্টিয়ান বিনীত স্বরে জানান, তারা জেগে পাহারারত ছিলেন। একটা বিকট চিৎকার আচমকা শুনে তরবারি অসিমুক্ত করে অপেক্ষা করছে বিপদে আত্মরক্ষা করবার জন্যে। রাজা অ্যালানসো বাধ্য হয়ে জানান , কই কিছু শুনি নি তো। গঞ্জালোও রাজার কথার পুনরাবৃত্তি করে, আপন মনে বলে মনে হল কে যেন কানে কানে আমাকে বলে গেল উঠে পড়তে। সাবধানতা অবলম্বন করতে। রাজার নির্দেশে সবাই তখন সে স্থান ত্যাগ করে অন্যত্র গিয়ে রাজপুত্রের খোঁজ করতে লাগলেন। অশরীরী এরিয়েল অলক্ষ্যে থেকে প্রস্পেরোকে উদ্দেশ্য করে বলেন — স্বামী! আপনার আদেশ আমি যথাযথভাবে পালন করেছি।

এখন নেপলসের রাজা অ্যালানসো তার পুত্রের খোঁজে গমন করেছেন। আর কোন সমস্যা নেই। আমি পিছনে আছি। আর দেরী না করে যত শীঘ্র সম্ভব যাত্রা করুন। কিছুক্ষণের মধ্যেই বজ্রনির্ঘোষ শুরু হয়ে যায়। ক্যালিবান এখন প্রস্পেরোকে অভিশাপ দিতে দিতে কাঠের বোঝা মাথায় নিয়ে পথ চলে। বলে সংক্রামক রোগ যত আছে সবই সূর্যদেব গ্রহণ করে পঙ্কিল জলাশয় এবং সমতল ভূমি থেকে, সে সব রোগ ঐ প্রস্পেরোর মাথায় ঝরে পড়ুক। তার অশরীরী আমার কথা শুনে থাকলেও আমি অভিশাপ দিতে ছাড়ব না। সর্বদা অকারণে আমার ঘাড়ে ওদের প্রয়োগ করা হয়। আমাকে দুঃখ - যন্ত্রণায় পাগল করে তোলে। রাজার ভাঁড় ট্রিনকুলোকে আসতে দেখে ক্যালিবান ভাবে বুঝি বা প্রস্পেরোর নিয়োজিত কোন অপদেবতা আসছে। এই ভেবে সে কান্ঠা বোঝা মাটিতে ফেলে পথের ধারে অন্ধকারে শুয়ে পড়ে । ঝড়ের বেগ সমান তালেই চলেছে। শুধু কালো মেঘ আর দূরের গাছগুলোকে ঝাপসা দেখা যায় বিদ্যুতের ঝলকানিতে। রাজার ভাড় ট্রিনকুলো আশ্রয়ের প্রত্যাশায় উদ্ভ্রান্তের মত ছুটতে ছুটতে সামনে শুয়ে থাকা ক্যালিবানকে দেখে থমকে দাঁড়ায়। ভাবে এটা কি কোন মানুষ, না মাছ? মানুষের মত পা কিন্তু পাখনাগুলো মাছের মত। মাছ, মানুষ বা দৈত্য তার কিছুই বুঝতে পারা যাচ্ছে না। ঝড়ের বেগ ক্রমেই বেড়ে যাচ্ছে। সেই সঙ্গে বজ্রপাতও ঘন ঘন হচ্ছে। এখানে লুকিয়ে থাকা ছাড়া গত্যন্তর নেই। এমন সময় সে পথে খানসামা ষ্টেকানো মদ টেনে মাতাল হয়ে গলা ছেড়ে গান গাইতে গাইতে টলতে টলতে আসে। ক্যালিবান এতক্ষণ মুখ বুজে সহ্য করছিল। আর পারল না। মাতালকে দেখে ভয়ে জড়োসড়ো হয়ে বলে, আমাকে আর কষ্ট দিও না। আর আমি পারছি না। এবার ষ্টেকানো ক্যালিবানকে দেখে ভাবে বুনো আর রেড ইণ্ডিয়ানরা বুঝি বোকা বানাবার চেষ্টা করছে। ওরা জানে না এ বান্দা জলে ডুবেও মরেনি। 

আর একটা চার পা ওয়ালা জীব দেখে ভয় পাবার আশঙ্কা করে? সেরা মানুষও যদি চার পায়ে হাঁটে তবু সে শক্ত হয়ে দাঁড়াতে পারে না, এই প্রবাদ তো মিথ্যা হতে পারে না। তাই আবার প্রাণ থাকতে বেকায়দায় ফেলতে পারবে না দানবেরা আর মানুষ যেই হোক না কেন। এবার ক্যালিবান কাতর কণ্ঠে বলে ওঠে — অপদেবতা আমাকে নিদারুণ কষ্ট দিচ্ছে। কথাটা শোনামাত্র ষ্টোকানো ক্যালিবানের দিকে তাকিয়ে ভাবে, এ কী! এ যে আমাদের ভাষায় কথা বলছে। এটাকে সুস্থ অবস্থায় পাকড়াও করে যদি নেপলসে নিয়ে যাওয়া যায় তবে পৃথিবীর যে কোন শাসনকর্তা সম্রাটের একটা অভিনব উপঢৌকনের সামিল হবে। 

আবার ক্যালিবান কাতর কণ্ঠে বলে, আর যন্ত্রণা দিও না আমাকে। আমি যত তাড়াতাড়ি পারি মাথায় করে কাঠ বয়ে নিয়ে যাবো। দেরী করব না। ষ্টেকানো ভাবে দানবটার বোধ হয় ফিটের ব্যামো আছে। তাই খানিকটা মদ ওকে গিলিয়ে দেয়, ভাবে মাতাল হলেই ফিট রোগ সেরে যাবে। পরে বিচিত্র এই জীবটাকে নেপলসের কারো কাছে গছিয়ে দিয়ে মোটা পারিতোষিক লাভ করা যাবে। ট্রিনকুলো এবার ষ্টেকানোকে দেখে মাতাল বন্ধুর মতিগতি ভাল নয় বুঝে অপেক্ষাকৃত জোর গলায় বলে, তুমি য়দি ষ্টোকানো হও তবে আমাকে ছুঁয়ে আমার সঙ্গে নির্ভয়ে কথা বল। কারণ আমি ট্রিনকুলো কথা বলছি। শোন, আমি ওটাকে বজ্রাঘাতে মৃত বলে মনে করেছিলাম। ঝড়ের ভয়ে মরা মানুষটার পোষাকের আড়ালে লুকিয়েছিলাম। দেখছি তুমি আর আমি জাহাজডুবিতে মরে যাইনি। উভয়েই বেঁচে আছি। এবার ক্যালিবান বলে এরা যদি অপদেবতা না হয়, তবে অবশ্যই স্বর্গের দেবতা। আমি সশ্রদ্ধ প্রণাম জানাই। মাথা নত করে বশ্যতা স্বীকার করি। ষ্টেকানো তখন জানায় যে, জাহাজ থেকে ছুঁড়ে ফেলে দেওয়া মদের বোতলের বাক্সের ওপর ভেসে ভেসে তীরে উঠছি। সেই বাক্স থেকে একটা বোতল নিয়ে এখানে এসেছি। এবার ক্যালিবান হাঁটু গেড়ে ষ্টেকানোর সামনে বসলে ষ্টেকানো ক্যালিবানের কুশল জিজ্ঞাসা করে।

ক্যালিবান বলে বোতলের নামে শপথ করে বলছি, আমি আপনার প্রজা হবো। এই সুবিধা শুধু পার্থিব নয়। আপনারা কি স্বর্গ থেকে আসেননি, আপনারা বলুন স্বর্গচ্যুত দেবতা নন আপনারা? ষ্টেকানো মজা করে বলল, ওসের দানব! আমরা চাঁদ থেকে আসছি। এক সময় আমি চাঁদের কেন্দ্রস্থলে থাকতাম। ক্যালিবান বলে, চাঁদে মনে হচ্ছে আমি আপনাকে দেখেছি। আপনাকে আমি পূজা করতে চাই। আমার মা চাঁদে আপনাকে আপনার পাপ ও কুকুরটাকে দেখিয়েছেন। আমিও আপনাকে এই দ্বীপের সবকিছু দেখাবো। আপনি আমার উপাস্য দেবতা হন। আমি আপনার কাছে সর্বদা নতজানু হয়ে থাকব।

এবার ষ্টেকানো তাকে ডেকে শপথ গ্রহণ করাচ্ছে দেখে ট্রিনকুলো হেসে ফেটে পড়ে বলে, একটা মাতাল দানবকে নিয়ে কিসের এত বাড়াবাড়ি। ষ্টেকানো গম্ভীর স্বরে বলে, আর বেশী কথা না বলে আমাদের পথ দেখিয়ে নিয়ে চল। আর দেরী করতে চাই না। এবার ক্যালিবান নিজের মনে গান গাইতে গাইতে তাদের পথ দেখিয়ে নিয়ে চলে। এদিকে রাজকুমার ফার্দিনান্দ মর্যাদা জলাঞ্জলি দিয়ে কঠোর পরিশ্রম করে শুকনো কাঠ বয়ে নিয়ে আসে। সে ভাবে অনেক সময় ছোট কাজও মহৎ পরিণামের সূচনা করে। আমার কাছে কোন ছোট কাজ ঘৃণা বলে মনে হয় না। মিরান্দার আপনজনের মত আচরণ যেন নতুন জীবন দান করছে আমাকে। জীবনকে আনন্দময় করে তুলেছে । যার বাবা এমন নির্দয় ও হৃদয়হীন তার মেয়ে এমন করুণাময়ী হয় কেমন করে ভেবে পাই না। এদিকে প্রস্পেরোর গুহার মুখে দাঁড়িয়ে কাঠ বহনরত রাজকুমারকে দেখে মিরান্দা উন্মাদিনীর মত ছুটে আসে।

রাজকুমারের কাঠের বোঝাটি নামাতে সাহায্য করে কাঁদো কাদো মুখে বলে এত কঠিন কাজ করো না। আমার চোখ দিয়ে জল বেরিয়ে আসছে। ঐ কাঠের গুড়িগুলো সব আমি পুড়িয়ে দেবো। আমি আর সহ্য করতে পারছি না। দয়া করে একটু বিশ্রাম করো। বাবা এখন পড়াশুনা নিয়ে ব্যস্ত। দীর্ঘ তিনটি ঘণ্টা আমি ও তুমি নিশ্চিন্ত থাকতে পারি। রাজকুমার হাসিমুখে জানাল— প্রিয়তমে, তোমার বাবার নির্দেশে আমাকে সন্ধ্যার আগেই এই কাজটি শেষ করতে হবে। তাই বিশ্রাম করে সময় কাটালে তার আদেশ তো প্রতিপালিত হবে না। তাই আমাক তাড়াতাড়ি কাজ করতে হবে। মিরান্দা এবার চোখের জল মুছে এগিয়ে এসে বলে, আমিই তোমার সব কাজ সম্পূর্ণ করবো। তুমি এখন বিশ্রাম কর প্রিয়তম।

রাজকুমার মিরান্দার বিষণ্ণ মুখের দিকে তাকিয়ে বলে, আমি আজ পর্যন্ত অনেক রমণীকে দেখেছি। কারো কারো মধুর কণ্ঠ আমাকে মুগ্ধ করেছে। তবে সম্পূর্ণ সত্তার বিকাশযুক্ত এমন রমণী এর আগে আর চোখে পড়েনি। তুমি এতই সম্পূর্ণ যে তুমি অনন্যা এবং অতুলনীয়া। মিরান্দা ভাবাবেগে জানায়, আমার শ্রেণীর কাকেও যে আমি চিনি না , জানি না। দর্পণের মাধ্যমে দেখা নিজের মুখ ছাড়া আর কোন মুখই মনে আনতে পারি না। আমার পিতা ছাড়া অন্য কাকেও পুরুষ বলে জানতাম না। আজই মাত্র তোমাকে জানতে পেরেছি। তোমাকে ছাড়া আর পুরুষকে নিজের সঙ্গী হিসেবে কল্পনাও করতে পারি না। আর আমার পিতার কঠোর নির্দেশ ভুলে গেছি। তোমার কাছে আর আমার এখন গোপনীয় বলতে কিছুই নেই। ফার্দিনান্দ বলে, মিরান্দা আমি যে একজন রাজপুত্র সে পরিচয় আমি এখানে দেবো না। তবে এ কাঠের বোঝা বওয়া আমি সহ্য করতে পারছি না।

যে মুহূর্তে আমি তোমাকে দেখেছি সেই মুহূর্তেই আমার মনে হয়েছে আমার হৃদয় যদি তোমার সেবার সুযোগ পেত। আর এই একটি কারণেই আমি কঠোর পরিশ্রম করতে কোন দিনই বিমুখ হইনি। আমায় কি তুমি ভালবাসো? পৃথিবীতে যা কিছু আছে তাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশী ভালবাসি তোমায়। আনন্দে মিরান্দায় দুচোখ জলে ভরে আসে। কিন্তু কিছু বলার আগেই প্রস্পেরোর কথা শোনা যায়। বলে দুজন প্রেমিকের শুভদৃষ্টি বিনিময়। উভয়ের হৃদয় বিনিময়ের ওপর স্বর্গ থেকে দেবতাদের আশীর্বাদ ঝরে পড়ুক। ফার্দিনান্দ বলে — মিরান্দা, একি কাঁদছে তুমি? Miranda কান্না থামিয়ে জোর করে হাসতে হাসতে বলে, আমি যা দিতে চাই, তা দিতে পারছি না। যদি তুমি আমাকে বিয়ে কর তবে আমি কৃতার্থ হই। আর যদি তা না কর, আজীবন আমি তোমার সেবিকা হয়েই থাকবো। ফার্দিনান্দ আবেগ মাখানো কণ্ঠে বলে, বন্দী হৃদয় দিয়ে চিরকাল যেমন মুক্তিকে কামনা করে তেমনি করেই আমি তোমার হৃদয়ে থাকবো। এবার মিরান্দা চমকে উঠে বলে, বাবার অধ্যয়ন সম্পন্ন হয়েছে। বিদায় প্রিয়তম বিদায়৷ এদিকে ষ্টেকানো, ট্রিনকুলো আর ক্যালিবান মদ পান করে ঘুরে বেড়ায়। আর বলে যতক্ষণ মদ থাকবে ততক্ষণ জল খাবো না। ট্রিনকুলো নেশার ঘোরেই বলে ওই দ্বীপের পাঁচজন বাসিন্দার মধ্যে তিনজন আমরা আর দুজন যদি একই স্বভাবের হয় তবেই যে সব রসাতলে যাবে। এদিকে ক্যালিবান মদে ঝুঁদ হয়ে আছে। ষ্টেকানোও কোন কথা না বলে কেবল মদ পান করারই ইচ্ছা। ট্রিনকুলো অস্থির হয়ে বলে , তোমরা শুধুই শুয়ে শুয়ে মদ গিলবে।

ষ্টেকানো টলতে টলতে ক্যালিবানকে কিছু বলতে অনুরোধ জানালে ক্যালিবান বলে, আমি আপনার পা চাটতেও রাজী, কিন্তু ঐ লোকটার সেবা করবো না, সে খুবই কাপুরুষ। এই কথায় ট্রিনকুলো রেগে গিয়ে ক্যালিবানকে বহু অপমানসূচক কথা বলে। উভয়ের মধ্যে কথা কাটাকাটি হচ্ছে দেখে ষ্টেকানো ট্রিনকুলোকে সতর্ক করে দেয়। ক্যালিবান নতুন প্রভুকে অনুনয় বিন করে বলে, এক সময় আমি দ্বীপের এক নির্দয় শাসকের সেবা করতাম। আপনি হবেন এই দ্বীপের স্বাধীন রাজা। সেই যাদুকরটা যখন ঘুমিয়ে থাকবে তখন আমি আপনাকে নিয়ে যাব। অশরীরী এরিয়েলের চাতুরীতে ষ্টেকানো যেন শুনতে পায় ট্রিনকুলো তাকে মিথ্যুক বলছে। সে রাগতভাবে ট্রিনকুলোকে সাবধান করে বলে, এ ধরনের কথা দ্বিতীয়বার উচ্চারণ করলে একটা মাছ বানিয়ে ছাড়ব তোমাকে। টুকরো টুকরো করে কাটবো। ট্রিনকুলো তীব্র প্রতিবাদ জামিয়ে বলে, কোন কথা আমি তোমাকে বলিনি। ষ্টেকানো বিশ্বাস করে না। ঠিক তখনই আবার এরিয়েলের চাতুরীতে সে শোনে ট্রিনকুলো তাকে দ্বিতীয়বার মিথ্যাবাদী বলছে। আর যায় কোথায়? ষ্টেকানো ট্রিনকুলোকে ঠেঙ্গিয়ে সেখান থেকে দব করে দিল।

এরপর ক্যালিবান নির্ভয়ে বলতে থাকে যাদুকর বিকেলে ঘুমোয়। সেখানে গিয়ে প্রথমে ওর যাদুবিদ্যার বইগুলো সরিয়ে ফেলতে হবে। তারপর ঘুমন্ত অবস্থায় কাঠের গুঁড়ি দিয়ে মাথাটা গুড়িয়ে দিতে হবে। তীক্ষ্ণ গোঁজ দিয়ে ছুঁড়িটা ফাসিয়েও দেওয়া যেতে পারে। নইলে শ্বাসননালিটাই টুকরো টুকরো করে দিলে হয়। যাদুকরটার মাথাটা আমার মতই মোটা। শুধু বইগুলো পুড়িয়ে দিতে পারলেই তার আর শক্তি থাকবে না। তখন— একটু থেমে কি যেন ভেবে ক্যালিবান আবার বলতে শুরু করে, আমি জীবনে মাত্র দুটি মেয়েকে দেখেছি। একজন আমার মা ও দ্বিতীয়জন ওই শয়তান প্রস্পেরোর মেয়ে। মেয়েটা অসমান্য সুন্দরী। আমার কথা শুনুন, সে আপনার শয্যাসঙ্গিনী হয়ে সুন্দর সন্তানের জন্ম দেবে। তার কথায় ট্রিনকুলো সব ভুলে পাশটিতে এসে বসল।

ষ্টেকানো আর কিছু বলল না। ক্যালিবানের কথা শেষ হলে ষ্টেকানো বলে, এই দ্বীপের রাজা আমিই হব। আর তুমি ও ট্রিনকুলো উভয়েই আমার প্রধানমন্ত্রী হবে। এবার ট্রিনকুলোর হাতে হাত মিলিয়ে দুঃখ প্রকাশ করে অনুরোধ করল আর ভবিষ্যতে যেন তুমি এমন অভদ্র আচরণ করো না। অশরীরী এরিয়েল বলে, আমি গিয়ে খবরটা আমার স্বামীকে দিচ্ছি। তিনজনের কেউই একথা শুনতে পায় না। তারা আনন্দে গান ধরে। গান থামিয়ে একসময় কান পেতে শোনে। মনে হয় এটা সুর নয়, বিশেষ কোন যন্ত্র বাজছে। ষ্টেকানো জানায় আমাদেরই সুর বটে এটা। অন্য কারা যেন অলক্ষ্যে থেকে গাইছে। এবার ষ্টেকানো আর্তনাদ করে উঠে বলে, মানুষ হলে আমাদের সামনে এসো। আর যদি অশরীরী কেউ হও, যা খুশী তাই করতে পার। ক্যালিবান বলে, ভয় পাবার কিছুমাত্র কারণ নেই। এই দ্বীপটা নানা শব্দে পরিপূর্ণ। আর এই বাতাসও সুমিষ্ট শব্দ আমাদের কোন ক্ষতি করে না, বরং আনন্দ দেয়। যন্ত্রসঙ্গীতের গুঞ্জনে আমরা জেগে উঠি। সুমিষ্ট সঙ্গীত আমাকে ঘুম পাড়িয়ে দেয়।

বদমায়েস Prospero কে খতম করার ভয়ে আপনারাও বিনা পয়সায় গান বাজনা শুনতে পাবেন। এবার তিনজনে পরিকল্পনা অনুযায়ী তৈরী হয়ে চারিদিকে সতর্ক দৃষ্টি রেখে এগিয়ে চলে। পথে যাতে কোন বাধা তাদের পরিকল্পনাকে বানচাল করে না দেয় তার জন্য সতর্ক থাকে । দীর্ঘ সময় পথ চলে প্রবীণ অমাত্য গজ্ঞালো ক্লান্ত হয়ে পড়েন । তিনি বলেন আমরা ভুল পথে ঘুরে মরছি । নইলে পথের শেষ হয় না কেন? রাজা অ্যালানসো ক্লান্ত ও নিরুৎসাহ হয়ে গঞ্জালোর কথা চিন্তা করে বিশ্রামের আদেশ দিয়ে বলেন যে, ধৈর্য সহকারে আমরা রাজপুত্রের অনুধাবন করছি। তাতে মনে হয় তাকে আর কোথাও খুঁজে পাওয়া যাবে না। বৃথাই ঘুরে মরছি। অ্যাণ্টেনিও, সেবাষ্টিয়ান এই কথা শুনে সবাই যখন বিশ্রামরত তখন সবার অগোচরে ফন্দী আঁটে, আজ রাতে ঘুমের সুযোগ নিয়ে আমরা কাজ হাসিল করবো।

ঠিক তখনই কোলাহল মুখরিত অদৃশ্য বীণার ঝঙ্কারিত সুমিষ্ট সঙ্গীত লহরী ভেসে আসে। কিম্ভুত কিমাকার কয়েকজন খাবার আনে। চারিদিকে ঘিরে নাচ - গান করে অভিবাদনের দ্বারা রাজাকে আমন্ত্রণ জানায়। ভোজনের পর সবকিছু আবার মিলিয়ে গেল। সবাই বিস্ময়ে হতবাক। রাজা অ্যালানসো বলল, এই অনুষ্ঠান? কি উপলক্ষ্যে? গঞ্জালো বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন কী সুন্দর গান। নেপলসে গিয়ে এই দৃশ্যের কথা বললে কেউ কি আর বিশ্বাস করবে? ঠিক দানবের মত দেখতে। কিন্তু তাদের আচরণ খুবই শিষ্ট। মানুষের চেয়ে এরা অনেক ভদ্র। মায়া মমতাও যথেষ্ট। এবার অদৃশ্য থেকে প্রস্পেরো বলল, হে সজ্জন, কি বলছি শুনুন। আপনার কথাই ঠিক। আপনাদের মধ্যেও ক’জন এমন শয়তান রয়েছে বলুন তো?

রাজা অ্যালানসো সবিস্ময়ে বললেন, চমৎকার। কোন ভাষা নেই, এক অভিনব মুক অভিনয়। অভাবনীয় ব্যাপার। Prospero আবার বলে, বিদায় নেবার পর সুখ্যাতি পাবে, বুঝছি। এ ব্যাপার দেখে গঞ্জালো বলেন, অবিশ্বাসের কিছুমাত্রও কারণ নেই রাজা। শৈশবে যেসব দৈত্য দানবের কথা শুনেছি, তার কিছু এমন সত্যও হতে পারে। এই সময় বজ্রধ্বনীর সঙ্গে বিজলীর আলোকছটাও দেখা যায়। পৌরাণিক দানবী হারপি - র মতই অবিকল অর্ধনারী ও অর্ধপক্ষীর বেশে অশরীরী এরিয়েলকে দেখা গেল। দানবী এবার বলল, তোমরা তিনজন পাপী, যাদের নিয়তি এই পাতালের জগতে তোমাদের পাঠিয়েছে , শাস্তি ভোগ করতে, যাতে সমুদ্রও তোমাদের গ্রহণ না করে তোমাদের তাই এই নির্জন দ্বীপে পাঠিয়ে দিয়েছে।

মানুষের মাঝে তোমরা বাঁচার অযোগ্য বলেই এ ব্যবস্থা। তোমাদের আমি উদ্ভ্রান্ত করে তুলবো যাতে তোমরা আত্মহত্যা করতে উদ্যোগী হও। অচিরেই তা ঘটবে। তোমরা এই যে তরবারি মুক্ত করছো কোন কাজই হবে না। কারণ, এগুলো চালনা করার মত শক্তি আমি কেড়ে নিয়েছি। তোমরা তিনজন মিলে মিলান শহর থেকে ডিউক প্রস্পেরো ও তাঁর একমাত্র কন্যা মিরান্দাকে বিতাড়িত করে সমুদ্রবক্ষে নিক্ষেপ করেছো। ঈশ্বর কৃপা করে তাদের নিয়ে এসেছেন দ্বীপে। আজ সব প্রাণীই তোমাদের তিনজনের উপর বিক্ষুব্ধ। নিষ্পাপ প্রস্পেরোর অভিশাপে তোমাদের জীবন অবশ্যই দুর্বিষহ হয়ে উঠবে। তাই অনুতাপানলে দগ্ধ হয়ে তোমরা বিশোধিত কর নিজেদের জীবন। এতে আমার কাজ হবে। বিকট বজ্রধ্বনীর মাধ্যমে এরিয়েলের অশরীরী আত্মা অদৃশ্য হয়ে গেল। প্রস্পেরো তার অশরীরী সহধর্মিনীকে বলে, আমার আদেশ অনুযায়ী এমন সুন্দর অভিনয়ের জন্য ধন্যবাদ।

তোমার জন্যই আমার শত্রুপক্ষকে আজ বন্দী করা সম্ভব হয়েছে। তাদের প্রতি আমার আর দয়া মায়া কিছুমাত্রও থাকতে পারে না। অ্যালানসো হতাশ দৃষ্টিতে তাকিয়ে থেকে বলে, বজ্রধ্বনীর মাধ্যমে শোনা যায় প্রস্পেরোর নাম। উচ্চারিত হলো আমার পাপের সব কথা। আজ আমি তাই পিচ্ছিল কর্দমে শয্যাশায়ী। শব্দ যেখানে কঠিন আঘাত হানে তারও গভীর থেকে আমি পুত্রকে খুঁজে বের করবো। প্রয়োজনে আমি তার পাশেই স্বেচ্ছায় মৃত্যুশয্যা গ্রহণ করবো। এই শুনে সেবাষ্টিয়ান বলে, যদি প্রতিবারে একজন করে দানব আসে তবে আমি অনায়াসে লিজিয়ন দানবের মোকাবিলা করতে পারি। অ্যাণ্টেনিও - ও ওর কথায় ইন্ধন দিয়ে এগিয়ে যায় সঙ্গীতরূপে। গঞ্জালো বিরস মনে ভাবে হতাশায় বেপরোয়া ঐ তিনজনকে তাদের মহাপাপ বিষের মত দংশন করতে শুরু করছে। তাদের নিরস্ত করাই এখন আমার একমাত্র কাজ হয়ে দাঁড়াল যুবরাজ Ferdinand প্রেমে পড়েছেন। Prospero তাকে পরীক্ষা করার জন্য উঠে পড়ে লেগেছেন। তিনি ভাবেন যুবরাজ সত্যিই Miranda কে ভালবাসে কিনা তা আমাকে জানতেই হবে। মেয়ের ভবিষ্যৎ — কম কথা নয়। তার প্রেমের পরীক্ষা করবার জন্য কতই না কষ্ট তাকে দিয়েছি।

এত অমানুষিক কষ্ট সহ্য করেও সে Miranda দ্বার প্রতি কোনদিন এতটুকু অবহেলা করেনি । তাই আজ একদিকে আমি যেমন তৃপ্ত তেমনি তাকে কঠোর শাস্তি দেওয়ার জন্য মর্মাহতও। Prospero এবার Ferdinand কে জানাল, আমার কন্যাকে তুমি গ্রহণ করো। আর যদি ইতিপূর্বেই তুমি আমার কন্যার কুমারীত্ব নষ্ট করে থাক, তবে শুভ পরিণয়ের আগেই এই প্রাক - উৎসব অনুষ্ঠানের জাঁকজমক নষ্ট হবে। তোমাদের মিলন শয্যায় নিয়ে আসবে অমঙ্গল৷ তাই বলছি কি সাবধান, পরিণয়ের মঙ্গলালোেক যেন তোমাদের উদ্ভাসিত করে তোলে । Ferdinand অসংকোচে বলে, জানবেন, আমার শান্তিময় ভবিষত্তকে। আমি অবশ্যই যোগ্য বংশধর আর দীর্ঘজীবন কামনা করি। এখন আপনার কন্যার সঙ্গে প্রেমের ঘনিষ্ঠতার অন্ধকার ঘরের কোণ। অনুকুল সুযোগ ও চরমতম লোভ অসৎ প্রবৃত্তি আমাকে টানবে না। পরিণয়ের দিনের সেই শুভক্ষণটিকে অবশ্যই অপবিত্র করবো না। কাম - গন্ধহীন আমার কামনা, জন্তু - জানোয়ারের মত আমার প্রবৃত্তি নয়। Prospero রাজকুমারের সততা আর স্পষ্ট উত্তরে যারপরনাই সন্তুষ্ট। তিনি বলেন, তুমি এখন থেকে মন খুলে Miranda সঙ্গে কথা বলতে পার। এবার তিনি গুহার কাছে গিয়ে এরিয়েলকে স্মরণ করেন। এরিয়েল এলে বলেন, শেষবারের মত তোমাকে অনুরোধ করছি, রাজা অ্যালানসোকে দলবলসহ এখানে নিয়ে এসো। এরিয়েল আদেশ পালন করতে রাজী হয়ে বলেন , অতি অবশ্যই, আমি তোমাকে বিলক্ষণ মন - প্রাণ দিয়ে ভালবাসি। তোমাকে স্মরণ না করা পর্যন্ত কিন্তু এখানে এসো না। Prospero গুহাদ্বারে ফিরে এসে ফার্দিনান্দকে বলেন, ভুলে যেয়ো না কঠিন প্রতিশ্রুতিও কামনার আগুনে ভস্ম হয়ে যায় । সংযমের বাঁধ যদি কোনদিন ভাঙে তবে তোমার প্রতিজ্ঞা ব্যর্থ হবে। আমার প্রতিশ্রুতি অবিচল। আমি কর্তব্যে অটল থাকব, কথা দিচ্ছি।

এবার Prospero ইন্দ্রজালের প্রতিক্রিয়া প্রতিফলিত হয়। অশরীরী পুরুষ আইরিশ আর নারী সীরিসকে দেখামাত্র আইরিশ সীরিসকে লক্ষ্য করে বলে ওগো সুন্দরী, তোমার উর্বর ভূমি কতই না শস্যাদিতে পরিপূর্ণ। তোমার সবুজ ভূমিতে মেষ চরানো হয়। তারা সবুজ ঘাস খায় আনন্দে। তোমারই আদেশে এপ্রিল মাসে অনুপম পুষ্পে গুল্মে সুশোভিত হয়ে প্রকৃতিকে মনোলোভা করে তোলে। কী অপূর্ব রূপে সেজে ওঠে । আর পরীরা যেসব সুন্দর ফুলে তৈরী মুকুট মাথায় পরে নিজেদের সাজিয়ে তোলে। তারপর বলল, প্রেমিকা প্রত্যাখ্যাত রমণীগণ কুঞ্জবনে তোমার আশ্রয় কামনা করে। পরিতৃপ্ত গুচ্ছ গুচ্ছ দ্রাক্ষাফল শোভা বিস্তার করে। তোমার সমুদ্র সৈকত অতি উর্বর ও বন্ধুর। তুমি সুরভিত নিঃশ্বাস গ্রহণ কর। স্বর্গের রাণী, তুমি যার রামধনু ও বার্তাবাহিকা আমি তোমাকে বলছি, সেসব ছেড়ে দিয়ে সেই মহিষীর সাথে এই তৃণভূমিতে উপস্থিত হও।

এইখানে এসে আনন্দের মাঝে নাচে - গানে মেতে ওঠো। তোমার সম্ভাষণ বিধানের জন্যে ময়ূরগণ শিখিপুচ্ছ সঞ্চারণ করবে। আনন্দে নাচবে। আনন্দ দেবে তোমাকে। সীরিস এবার আইরিশকে বলল, ওগো সুসজ্জিতা সংবাদবাহিকা, তুমি কখনও ইন্দ্ৰ বাঞ্ছিতার আদেশ অমান্য কর নি। তোমার জাফরানী পাখনা দিয়ে মধুর মতো একসময় মিষ্টি স্নিগ্ধ জলের ছিটে ছড়িয়ে দিতে আমার ফুলের গায়ে। তোমার সাতরঙা রামধনুর আশা আকাঙ্খায় আমার বনের সৌন্দর্য বাড়িয়ে দাও। তুমিই আমার পৃথিবীর অলঙ্কারস্বরূপ। বল রাণী কে এই ছোট্ট সবুজ আমাকে ডেকে পাঠিয়েছেন। বল, কে স্মরণ করেছেন আমাকে। আইরিশ বলে, প্রকৃত প্রেমের উদ্বাহু বন্ধন আমাদের সংঘটিত করতে হবে। আর নবদম্পতির মঙ্গল কামনায় কিছু পুরস্কার দান করতে হবে আমাদের। সীরিস বিষণ্ণ মুখে তাকিয়ে বলে, তুমি কি জান ভেনাস - এর অথবা তার ছেলে রাণীর পরিচর্যা করছে?

তাদের ষড়যন্ত্রে বিষাদাচ্ছন্ন প্লুটোকে দিয়ে আমার আদূরে মেয়েকে নিয়ে পালিয়ে গেলে তার কানা ছেলে আর কদর্যতাপূর্ণ সান্নিধ্য আমি ছেড়ে চলে এসেছি। আইরিশ অভয় দান করে বলে, মিছে এসব চিন্তা করে ভয় পাবার কিছুই নেই। আমি নিজের চোখে তাকে মেঘের ভিতর দিয়ে পাফোসের দিকে যেতে দেখেছি। সে বলে তার ছেলেটিও আছে দেখলাম। তাদের মতলব ভালো নয়। আমার মনে হচ্ছে, তাদের কপট সম্মোহনী শক্তি দিয়ে এই দুই প্রেমিক - প্রেমিকাকে শুভ পরিণয়ের আগেই ব্যভিচারে লিপ্ত করে তাদের দেয়া প্রতিশ্রুতি ভেঙ্গে দেবে। তা মোটেই হবার নয়। কেন না প্রেয়সী আর তার ছেলে ফিরে গিয়ে তার তীর ভেঙ্গে দিয়েছে। প্রতীজ্ঞা করেছে, জীবনে আর সে কোনদিন তীর ছুঁড়বে না। ভবিষ্যতে সে নাকি শান্তশিষ্ট বালকের মত শুধু চড়াই পাখি নিয়ে খেলায় মেতে থাকবে। এবার সীরিস আকাশের দিকে তাকিয়ে বলল দেখো, রাণীদের মধ্যে যাঁকে শ্রেষ্ঠ জ্ঞান করা হয় সেই জুনা নেমে আসছেন কারণ আমি তার চলনভঙ্গিমা দেখেই চিনে নিতে ভুল হয় না।
Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url